ভারতে ‘উদ্বাস্তু’ শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারত সরকারের পরিকল্পনা?
বাংলাদেশে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানাও। গণবিক্ষোভের কারণে পদত্যাগের পর হাসিনা কূটনৈতিক পাসপোর্টের সুবিধায় ভারতে প্রবেশ করলেও, তার সেই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করেছে বলে জানা যায়।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ৬ আগস্ট জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনা অল্প সময়ের নোটিশে ভারতে প্রবেশ করেছেন। তবে এরপর থেকে ভারতের সরকার ও গণমাধ্যমগুলো হাসিনার বিষয়ে তেমন কিছু বলেনি। ৯ সেপ্টেম্বর ভারতের জিও নিউজ জানায়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান মোহাম্মদ তাজুল ইসলামও বলেছেন, প্রধান অপরাধী হিসেবে হাসিনাকে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তবে ভারতের গণমাধ্যমগুলো বলছে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার সম্ভাবনা কম। ভারতের সঙ্গে ২০১৩ সালে করা অপরাধ প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকলেও, এটি হাসিনার ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ১ সেপ্টেম্বর বলেছেন, আদালত যদি নির্দেশ দেয়, তবে হাসিনাকে ফেরত আনার চেষ্টা করা হবে। তবে ভারতের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে এটি কার্যকর হবে কি না।
এদিকে, ৫ সেপ্টেম্বর ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, শেখ হাসিনার ভারত থেকে রাজনৈতিক মন্তব্য করা উচিত নয়। তিনি বলেন, "ভারতে অবস্থানকালে শেখ হাসিনার চুপ থাকা উচিত। তিনি সেখানে বসে নানা বিবৃতি দিচ্ছেন, যা সমস্যা তৈরি করছে। আমরা তাকে বিচার করতে দেশে ফেরত আনতে চাই।"
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেন যে, "অনেক নেতা তাদের দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যান। যদি শেখ হাসিনা দেশের বাইরে থাকেন, তবে তাকে থাকতে দিন। আমরা চাই বাংলাদেশ দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুক।"
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ১৭ সেপ্টেম্বর বলেন, বাংলাদেশে কী ঘটছে, তা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে শেখ হাসিনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

0 Comments