Header Ads Widget

তারেক রহমান জানিয়েছেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন চলবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন চলমান রয়েছে এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত এটি চলতে থাকবে।’

রোববার বিকেলে সাতক্ষীরার কলারোয়া হাইস্কুল মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের সমাবেশ হয়।
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় স্থানীয় বিএনপি এই গণসংবর্ধনার আয়োজন করে, কারণ শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার মামলায় ৭০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব চার বছর কারাভোগের পর নিজ এলাকা সাতক্ষীরায় ফিরে আসেন।


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম শেষ হয়নি। অনেক কাজ এখনও বাকি, আমাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে। কিছু রাজনৈতিক দল এখন চেনা শত্রু এবং প্রতিবেশী দেশের ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিয়েছে। আপনার আশপাশেই তারা রয়েছে। তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকুন এবং নিজস্ব বুদ্ধি ও বিবেচনায় তাদের মোকাবিলা করুন।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘স্বৈরাচারের পতন হলেও ষড়যন্ত্র এখনো চলমান। সকল ষড়যন্ত্রের বিষদাঁত ভেঙে দিয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তি নিয়ে মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রদর্শিত উন্নয়ন ও কল্যাণের রাজনীতি বিএনপির অনুপ্রেরণা হবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা ১৭ বছর ধরে শেখ হাসিনা ও তার আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাত থেকে সীমাহীন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দেড় যুগ ধরে গুম, খুন, নির্যাতন, জমি-বাড়ি দখল, ব্যবসা নষ্ট—এই সবই চলে আসছে। আজ শেখ হাসিনা ও তার দলের পালানোর অস্বস্তিকর পরিস্থিতি আপনাদের দেখেছি।’


তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি, আমের মৌসুমে আপনারা সারা দেশে প্রথমে ক্ষীরসাপাতি এবং ল্যাংড়া আম দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। আমি যদিও প্রায় ৬ হাজার মাইল দূরে আছি, তবুও হৃদয়ে সব সময় আপনাদের দেখতে পাই।’ 
তারেক রহমান মন্তব্য করেন, ‘বিগত ১৭ বছর ধরে আপনারাও স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার নিদারুণ কষ্ট ও যন্ত্রণা সহ্য করেছেন। জেল, নির্যাতন, ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা—এমন কিছু নেই যা আপনি মোকাবিলা করেননি। আওয়ামী চাঁদাবাজির কারণে এখানে বড় কোনো শিল্পকারখানা নেই, বেকারদের জন্য চাকরি নেই।’

তিনি বলেন, ‘এখানে আমের মৌসুমে সবচেয়ে আগে আম উৎপাদিত হলেও আম সংরক্ষণ কিংবা আমের রস ও আচার-চাটনির কোনো কারখানা নেই। অথচ সরকার দাবি করছে উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে। আমি জানি, আপনারা নিজেরা শ্রম ও বুদ্ধি দিয়ে সুন্দর মাটির টালি তৈরি করেন যা ইতালি ও ইউরোপে রপ্তানি হয়, কিন্তু বড় কোনো কারখানা নির্মাণের চেষ্টা নেই।’


সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ও সদ্য কারামুক্ত নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব। বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, রংপুর বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক, খুলনা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. শহিদুল আলম, সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দীন, অ্যাডভোকেট শাহানারা আক্তার বকুল, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তারিকুল হাসান এবং আইনুল ইসলাম।

Post a Comment

0 Comments