'নাগরিক কমিটি' গঠন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের—তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?
প্রথমে কোটা সংস্কার আন্দোলন, তারপর সেই আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতনের এক দফা দাবি। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গণঅভ্যুত্থানের মুখে সরকার প্রধান দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে দেশের ছাত্র-জনতা এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের এক মাস পর, এখন নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৈরি জাতীয় নাগরিক কমিটি।
যদিও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তারা যাত্রা শুরু করেছে, এই সংগঠন এখনও রাজনৈতিক দল হিসেবে কার্যক্রম শুরু করবে না।
সংগঠনটি জানিয়েছে, গত ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে রাষ্ট্র পরিচালনার পর দেশের বিভিন্ন সেক্টরে এখনও স্বৈরাচারী ধারা ও অব্যবস্থাপনা বিদ্যমান।
এই অবস্থায়, 'জাতীয় নাগরিক কমিটি' তাদের কার্যক্রম শুরু করে সারাদেশের জেলা, উপজেলা ও মহানগরগুলোতে ছড়িয়ে যাবে। তাদের প্রথম লক্ষ্য হবে সংস্কার কার্যক্রম।
সদস্য সচিব হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক ডাকসু নেতা আখতার হোসেন।
মি. হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “এটা একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, তবে আমরা এখনও রাজনৈতিক দল হিসেবে যাত্রা শুরু করছি না। কবে এবং কিভাবে দল হিসেবে কার্যক্রম শুরু হবে, তা ভবিষ্যতের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।”
বাংলাদেশের ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনীতিতে গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল প্রধান দুই রাজনৈতিক জোট—আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।
তবে, নানা সংকটময় পরিস্থিতিতে বিভিন্ন তৃতীয় রাজনৈতিক জোট গঠনের চেষ্টা হলেও সেগুলি সফলতার মুখ দেখেনি।
এই অবস্থায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা এই প্ল্যাটফর্মটি আগে সংবিধান পরিবর্তন করে রাজনৈতিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে চায়। এরপর তারা রাজনৈতিক দল হিসেবে যাত্রা শুরুর দিকে নজর দেবে।

0 Comments