গত জুলাই এবং চলতি মাসের শুরুতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর হামলা চালানো হয়। তাও আবার নির্বাচনী প্রচারে। এটা নিশ্চয় খুবই হীন কাজ। এবং এরই মধ্যে এই কাজে জড়িতদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এ নিয়ে নিন্দা, উৎকণ্ঠা ইত্যাদিও জানানো হয়েছে নানা তরফ থেকে। পাশাপাশি এই প্রশ্নও উঠেছে যে, এই হত্যাচেষ্টা কি সত্যিকারের, নাকি নাটক?
প্রশ্নটি শুনে মনে হতে পারে যে, বিপরীত রাজনৈতিক শিবিরই নিশ্চয় এমন সংশয় ছড়াচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি এত সরল নয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ নিয়ে একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলেছে। তাদের কেউ রিপাবলিকান পার্টির সমর্থক, কেউ ডেমোক্র্যাট। উভয় পক্ষ থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বিবিসি এ ক্ষেত্রে কথা বলেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ওয়াইল্ড মাদার’ খ্যাত পরিচিত মুখ ডেসিরির সঙ্গে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরব সমর্থক হিসেবেই তিনি পরিচিত। কলোরাডোর এই বাসিন্দাও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একই ধরনের প্রশ্ন ও সংশয় প্রকাশ করেছেন ক্যামিলি। ডেনভারের এই বাসিন্দা আবার গত ১৫ বছর ধরে ডেমোক্রেটিক পার্টিকেই ভোট দিয়ে আসছেন। তাঁর দৃষ্টিতে এই হত্যাচেষ্টা নাটক ছাড়া আর কিছু নয়।
বিবিসি রেডিও ফোর পডকাস্টে হাজির হয়ে এই দুই নারীই প্রায় একই সুরে কথা বলেছেন। বিবিসি চাইছিল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে এই হত্যাচেষ্টা নিয়ে এত সংশয় কেন ছড়াচ্ছে, তা বুঝতে। এরই অংশ হিসেবে বিবিসি রেডিও ফোর এই পডকাস্টের আয়োজন করে।
আলোচনায় ওয়াইল্ড মাদার বলেন, সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন হচ্ছে যে, এটা ভাবা অস্বাভাবিক না যে, পরিকল্পিতভাবেই এটি ঘটানো হয়েছে। আর ক্যামিলি সরাসরি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতেই এই নাটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই এ ধরনের ঘটনাকে নাটক হিসেবে আখ্যা দিই না। কোভিড‑১৯ যেমন বাস্তব ছিল, কিংবা ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রতারণাপূর্ণ হওয়ার দাবি যে মিথ্যা ছিল, তা আমি সাথে সাথেই বলেছি। কিন্তু এবারই প্রথম গত ১৩ জুলাই এই ঘটনা দেখার সাথে সাথে আমার মুখ দিয়ে একটা শব্দই বেরিয়ে আসে–নাটক।’ এই সন্দেহের কারণ হিসেবে তিনি ঘটনার পরপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি তোলার ধরন এবং তাঁর মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে ধরার কথা বলছেন।
ওয়াইল্ড মাদার নামে পরিচিত ওই নারী আবার কট্টর শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত। সামাজিক মাধ্যমে এ দুই হত্যাচেষ্টা নিয়ে রিপাবলিকান তরফের নানা প্রচার ও এসবের ধরন দেখে তিনি বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প শয়তান পূজারিদের একটি গোষ্ঠীর সাথে লড়াই করছেন। ট্রাম্প সমর্থকেরা এই হত্যাচেষ্টার নাটক করে রাষ্ট্রের ভেতরে থাকা ওই গোষ্ঠীর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলতে চেয়েছে। তিনি বলছেন ডিপ স্টেটের কথা, যা নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত। তাঁর দাবি, ডিপ স্টেট ট্রাম্পের মতো রাজনৈতিককে যে চায় না, তা সবার সামনে হাজির করতেই এই নাটক করা হয়েছে।
বিবিসি বলছে, বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই দুই তত্ত্বের কোনোটির স্বপক্ষেই কোনো প্রমাণ বা সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
ক্যামিলি অবশ্য নিজের সংশয়ের পেছনে বেশ কিছু কারণের কথা বলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে–গোয়েন্দা বাহিনীর এমন বড় একটি ইভেন্টে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা, কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালকের পদত্যাগ, ২০ বছর বয়সী আততায়ীকে সঙ্গে সঙ্গেই গুলি করে হত্যা করা, এখন পর্যন্ত এই হত্যাচেষ্টার মোটিভ না জানা ইত্যাদি।
এই প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে–এটা যেমন সত্য, তেমনি সত্য হচ্ছে দ্বিতীয় ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও আইন‑শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চাইলে এই পর্যায়ে তদন্তের মাধ্যমে সত্যটি সামনে আনতে পারে। তবে সামাজিক মাধ্যমে এ হামলা ও এর সত্য‑অসত্য নিয়ে যেভাবে মেতে উঠেছে, তাতে সামনের নির্বাচনে এর একটি প্রভাব পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

0 Comments