হাজার গোলের পথে রোনালদোর যাত্রা
লক্ষ্য ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর, কিন্তু এই অর্জনের পরিধি এত ব্যাপক যে, তা কেবল তার একার নয়। তার যাত্রার সঙ্গী তার সতীর্থরা, গোটা দল, এবং ফুটবলবিশ্বের অনেকেই। রোনালদোর প্রথম পদক্ষেপের পর ব্রুনো ফের্নান্দেস যেমন বলেছেন, "যাত্রা শুরু হয়ে গেছে।" লক্ষ্যটা এখন সবার জানা। ৯০০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার আগেই রোনালদো জানিয়েছেন, তিনি ক্যারিয়ারে ১ হাজার গোল করতে চান।
নেশন্স লিগে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গোল করে তার ৯০০ গোল পূর্ণ হয়। এরপর শুরু হলো পরবর্তী ১০০ গোলের যাত্রা। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে শেষ দিকে ম্যাচের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন রোনালদো। তার গোলেই জয়লাভ করেছে পর্তুগাল। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি তার ১৩২তম গোল, আর তার ক্যারিয়ারে মোট গোল এখন ৯০১।
ম্যাচটি ফের্নান্দেসের জন্য বিশেষভাবে স্মরণীয় হবে। এটি তার ক্যারিয়ারের ৬০০তম ম্যাচ এবং তার জন্মদিনও ছিল সেই দিন। ৩০ বছর পূর্ণ করা এই ফুটবলারের গোলেই সমতা ফেরায় পর্তুগাল।
লিসবনে স্কট ম্যাকটোমিনের গোলে সপ্তম মিনিটে স্কটল্যান্ড এগিয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের নবম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ফের্নান্দেসের একটি গড়ানো শট স্কটিশ গোলকিপারের হাত ছুঁয়ে জালে প্রবেশ করে। পরে, ৮৮তম মিনিটে নুনো মেন্দেসের বাড়ানো বল থেকে দ্রুত গতিতে ছুটে এসে রোনালদো গোল করেন।
এটি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে রোনালদোর প্রথম গোল। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি দেশের বিপক্ষে গোল করার তার রেকর্ডটি আরও সমৃদ্ধ হলো, এখন পর্যন্ত ৪৮ দেশের বিপক্ষে গোল করেছেন ইতিহাসের সফলতম গোলস্কোরার।
ম্যাচ শেষে ফের্নান্দেস জানান, রোনালদো যে কোনো ভূমিকাতেই পার্থক্য গড়তে পারেন, সেটা তিনি প্রমাণ করেছেন। পাশাপাশি, তিনি রোনালদোর লক্ষ্যের কথাও মনে করিয়ে দেন।
“তার প্রভাব সবসময়ই অপরিবর্তিত থাকে, সেটা তিনি শুরুর একাদশে হোক বা বদলি নেমে হোক। আজ সবাই পার্থক্য গড়েছে। ক্রিস্তিয়ানো তো ক্রিস্তিয়ানোই। আজকে আবার গোল করলেন, ৯০১ গোল হয়ে গেল তার এবং হাজার গোলের পথে তার যাত্রা শুরু হলো, যা তিনি খুবই চান।”
ফের্নান্দেস নিজের জন্মদিনে দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে অত্যন্ত খুশি। স্কটল্যান্ডের কঠিন প্রতিপক্ষ হওয়ার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
“স্কটল্যান্ড একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তাদের প্রায় সব খেলোয়াড় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলেন, যা তাদের মানের পরিচায়ক। তারা শক্তিশালী শারীরিকভাবে এবং বল নিয়ন্ত্রণে দক্ষ। সেট-পিসে তারা বিপজ্জনক। আমরা জানতাম ম্যাচের আগে থেকেই, তবে বাজে সময়ে গোল হজম করে ফেলি। তবুও, আমরা এই ম্যাচে আমাদের মানসিকতা দেখিয়েছি, কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয় এবং জয় লাভ করতে হয়।”
“জাতীয় দলের হয়ে গোল করা সবসময় সন্তুষ্টির বিষয়। নিজের জন্মদিনে গোল করে এবং পর্তুগালের সঙ্গে উদযাপন করতে পারা আরও বিশেষ।”


0 Comments