টানা দুই দিনের অবরোধে অনেকটাই স্থবির খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির জনজীবন। হামলা ও সহিংসতার পর এখনও কিছু থমথমে দুই জেলার পরিস্থিতি। রাঙামাটিতে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার হয়েছে। জুম্ম ছাত্র-জনতার ডাকে দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ আছে সড়ক ও নৌ যোগাযোগ। সাজেকে আটকা পড়েছেন দেড় হাজার পর্যটক। এদিকে পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তরা চান সরকারের সহায়তা।
অবরোধের সমর্থনে রোববার সকালে খাগড়াছড়ি সাজেক সড়ক, পানছড়ি, রামগড় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে অবরোধকারী জুম্ম ছাত্র জনতা।
বৃহস্পতিবারের হামলা ও আগুনে খাগড়াছড়ির লারমা স্কয়ারের শতাধিক পাহাড়ি ও বাঙালিদের দোকান পুড়ে গেছে। পুঁজি হারিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা একেবারে মেনে নিতে পারছি না। এত কম সময়ের মধ্যে কিছুই বাঁচানো যায় নি। সব কিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে, আমাকে ফোন করে জানায়। পরে আগুনে তো যা ছিল তাও শেষ।’
এদিকে, যান চলাচল বন্ধ থাকায় সাজেকে বেড়াতে গিয়ে আটকা পড়েছে প্রায় দেড় হাজার পর্যটক। সড়ক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগে তাদের ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই, বলছে প্রশাসন।
বাঘাইছড়ির ইউএনও শিরিন আক্তার বলেন, ‘সবাই নিরাপদে আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা তাদেরকে মুভ করাব।’
রাঙামাটিতে জারি করা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করেছে প্রশাসন। শহরের পরিবেশ কিছুটা থমথমে হলেও কোনো সংঘর্ষ বা সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। তবে গুজব ছড়িয়ে অস্থির করা হতে পারে পাহাড়, এমন শঙ্কায় স্থানীয়রা।
রাঙামাটির স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘গুজব চলছে। রাতে ঠিক মতো ঘুমাতে পারি না। এদিকে আতঙ্ক, ওদিকে আতঙ্ক। এতো আতঙ্কে আছি যা বলার মতো না। আমরা এটার একটা শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই।’
এদিকে, রোববার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সেনা রিজিয়ন কমান্ডারসহ জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার এসএম ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘কোনো অপরাধী যে আইন হাতে তুলে নিয়েছে, কোনোভাবেই ছাড়া পাবেন না। আমি সবাইকে আহ্বান জানাবো, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা সবাই মিলে যেন ভূমিকা রাখি।’রাঙামাটিতে সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুটি মামলা দায়ের হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ সময় ব্যাপক অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে ক্ষতি হয় লারমা স্কয়ারে।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকালে চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে মামুন নামের এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল বের করে দীঘিনালা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বের হলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে লারমা স্কয়ারে আগুন দেওয়া হয়।
পরদিন শুক্রবার সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে রাঙামাটিতে। সহিংসতায় এই দুই জেলায় ৪ জন নিহতের তথ্য পাওয়া গেছে।

0 Comments