সেই চিরচেনা গল্প। ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ টেস্ট খেলবে। একপেশে ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ হেরে যাবে বড় ব্যবধানে। দেশটির সঙ্গে আগের টেস্ট ইতিহাস তো সেটাই বলে। আগের ১৩ টেস্টে যে দুটি ম্যাচে বাংলাদেশ ড্র করতে পেরেছিল, সে দুটি ম্যাচেও ছিল বৃষ্টির বাগড়া। কয়েকদিন আগের পাকিস্তান সিরিজ হয়তো প্রত্যাশার পারদ কিছুটা বাড়িয়েছিল। কিন্তু চেন্নাইয়ে ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে সেই চেনা গল্পের আর পরিবর্তন হলো কোথায়? টেস্টের বয়স সাড়ে তিনদিন হওয়ার আগেই বাংলাদেশ ম্যাচটা হেরে গেছে ২৮০ রানের ব্যবধানে।
এ ম্যাচে যাদের দিকে সবচেয়ে বেশি তাকিয়ে ছিল দল, তাদের অন্যতম সাকিব আল হাসান। কিন্তু বাংলাদেশি অলরাউন্ডার প্রত্যাশা পূরণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। ব্যাট হাতে দুই ইনিংসে ৩২ ও ২৫ রান করলেও বল হাতে ছিলেন উইকেটশূন্য। বেহাল পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সাকিবের আঙুলের চোট নিয়েও গুঞ্জন উঠেছে। এ অবস্থায় সিরিজের পরের টেস্টে সাকিবকে দেখা যাবে কিনা, সেটা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রথম টেস্ট শেষে আজ সংবাদ সম্মেলনে এসে নাজমুল হোসেন শান্ত জানালেন ভিন্ন কথা। পারফরম্যান্সের চেয়ে দলের প্রতি নিবেদনই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দলের অধিনায়কের কাছে। এ কথা শুধু সাকিবের জন্য নয়, বরং দলের সকল খেলোয়াড়ের জন্য প্রযোজ্য বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেছেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে সত্যি কথা বলতে, খেলোয়াড়দের মধ্যে যেটা দেখি, শুধু সাকিব ভাই বলে বলছি না, কে কতটুকু কষ্ট করছে, কামব্যাক করার জন্য যা যা করা দরকার, তা করছে কিনা। দলের প্রতি তার নিবেদন কেমন এবং তিনি কতটা দিতে আমি প্রস্তুত। আমি মূলত এ জিনিসগুলোই দেখি।’
অধিনায়কের এমন মন্তব্য শুনে যাতে কেউ মনে না করেন যে, সাকিব এ টেস্টে পারফর্ম করতে পারেননি বলেই এমনটা বলেছেন শান্ত, সেটা ব্যাপারটাও পরিষ্কার করেছেন পরে। জানিয়েছেন, এটি সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, ‘এটা অনেকে ভাবতে পারেন, হয়তো সাকিব ভাই দেখে বলছি। কিন্তু জিনিসটা এরকম না। নাহিদ রানা থেকে শুরু করে মুশফিক (মুশফিকুর রহিম) ভাই পর্যন্ত একই জিনিস আমি দেখার চেষ্টা করি। রান করছে কী করছে না, আমার কাছে এটার চেয়ে জরুরি হচ্ছে, তার প্রস্তুতি কেমন, দলের প্রতি চিন্তাভাবনা কেমন। দলকে ভালো কিছু দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে কিনা।’
জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি নিয়েও সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন শান্ত, ‘দলে যে ১৫-১৬ জন খেলোয়াড় আছে, সবার ওই প্রস্তুতি বা কমিটমেন্ট দেখে আমি খুশি।’

0 Comments